
১. ওজন স্তরটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে প্রধানত অবস্থিত?
(ক) ট্রপোস্ফিয়ার
(খ) স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার
(গ) মেসোস্ফিয়ার
(ঘ) থার্মোস্ফিয়ার
উত্তর: (খ) স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার
২. সূর্য থেকে আসা ক্ষতিকারক অতিবেগুনী (UV) রশ্মির কত শতাংশ ওজন স্তর আনুমানিক শোষণ করে?
(ক) ৫০-৭০%
(খ) ৭০-৯০%
(গ) ৯৭-৯৯%
(ঘ) ১০০%
উত্তর: (গ) ৯৭-৯৯%
৩. নিম্নলিখিত কোন মনুষ্যসৃষ্ট রাসায়নিক পদার্থটি ওজন স্তর ক্ষয়ের প্রধান কারণ?
(ক) কার্বন ডাই অক্সাইড (CO₂)
(খ) মিথেন (CH₄)
(গ) ক্লোরোফ্লুরোকার্বন (CFCs)
(ঘ) নাইট্রোজেন অক্সাইড (NOₓ)
উত্তর: (গ) ক্লোরোফ্লুরোকার্বন (CFCs)
৪. ওজন স্তর ক্ষয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং সুপরিচিত উদাহরণ, যা প্রায়শই “ওজোন গর্ত” নামে পরিচিত, প্রধানত কোন মহাদেশের উপরে দেখা যায়?
(ক) এশিয়া
(খ) আফ্রিকা
(গ) অ্যান্টার্কটিকা
(ঘ) আর্কটিক
উত্তর: (গ) অ্যান্টার্কটিকা
৫. ওজন স্তর ক্ষয়ের কারণে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত UV-B রশ্মির ফলে জলজ খাদ্য শৃঙ্খলের শুরুতে কোনটির ক্ষতি হয়?
(ক) মাছ
(খ) তিমি
(গ) ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন
(ঘ) প্রবাল প্রাচীর
উত্তর: (গ) ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন
১. পৃথিবীতে জীবনের জন্য ওজন স্তরের দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা উল্লেখ করো।
উত্তর: ওজন স্তরের দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা হল: (i) এটি সূর্য থেকে আসা ক্ষতিকারক অতিবেগুনী (UV) রশ্মির, বিশেষ করে UVB-এর একটি বড় অংশ (৯৭-৯৯%) শোষণ করে এবং ভূপৃষ্ঠে পৌঁছাতে বাধা দেয়। (ii) এই ক্ষতিকারক রশ্মিগুলিকে ফিল্টার করার মাধ্যমে, এটি মানুষের স্বাস্থ্য রক্ষা করে (ত্বকের ক্যান্সার, ছানি এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাসের ঝুঁকি কমায়), স্থলজ ও জলজ বাস্তুতন্ত্র রক্ষা করে এবং কিছু নির্দিষ্ট বস্তুকে ক্ষয় থেকে রক্ষা করে।
২. পাঠ্যটিতে উল্লিখিত দুটি ওজন স্তর ক্ষয়কারী পদার্থের নাম লেখো।
উত্তর: পাঠ্যটিতে উল্লিখিত দুটি ওজন স্তর ক্ষয়কারী পদার্থ হল ক্লোরোফ্লুরোকার্বন (CFCs) এবং হ্যালোনস (Halons)।
৩. শীতকালের পর বসন্তকালে অ্যান্টার্কটিকায় ওজন স্তর ক্ষয় বেশি হওয়ার কারণ সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: শীতকালের পর বসন্তকালে (আগস্ট-নভেম্বর) অ্যান্টার্কটিকায় ওজন স্তর ক্ষয় বেশি হওয়ার কারণ হল সেখানকার বিশেষ বায়ুমণ্ডলীয় পরিস্থিতি। অত্যন্ত ঠান্ডা তাপমাত্রা মেরু স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারিক মেঘ (polar stratospheric clouds) তৈরি করে। এই মেঘের পৃষ্ঠে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে এবং শীতের পর সূর্যের আলো ফিরে এলে ক্লোরিন ও ব্রোমিন পরমাণু নির্গত হয়, যা অতি দক্ষতার সাথে ওজোন অণুকে ধ্বংস করে এবং “ওজোন গর্ত” তৈরি করে।
১. সমগ্র জীবমণ্ডলের জন্য ওজন স্তরের গুরুত্ব বর্ণনা করো, কমপক্ষে তিনটি নির্দিষ্ট প্রভাবের ক্ষেত্র তুলে ধরো।
উত্তর:ওজন স্তর পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে অবস্থিত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গ্যাসের স্তর। এটি সূর্যের ক্ষতিকারক অতিবেগুনী (UV) রশ্মির, বিশেষ করে UVB-এর সিংহভাগ (৯৭-৯৯%) শোষণ করে পৃথিবীকে রক্ষা করে। এই সুরক্ষা ব্যবস্থা না থাকলে পৃথিবীতে জীবনের অস্তিত্ব বিপন্ন হতে পারত। সমগ্র জীবমণ্ডলের জন্য ওজন স্তরের গুরুত্ব অপরিসীম এবং এর প্রভাব বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিস্তৃত:
এছাড়াও, ওজন স্তর রক্ষা পেলে বিভিন্ন কৃত্রিম পলিমার এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ বস্তু UVB রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা পায়, ফলে তাদের স্থায়িত্ব বাড়ে। ওজন স্তর ক্ষয় বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের উপরও পরোক্ষ প্রভাব ফেলতে পারে।
২.মনুষ্যসৃষ্ট রাসায়নিক পদার্থের কারণে ওজন স্তর ক্ষয়ের প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করো এবং নির্দিষ্ট উদাহরণ সহ সমগ্র জীবমণ্ডলের উপর এর প্রভাব আলোচনা করো।
উত্তর:মনুষ্যসৃষ্ট বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ, যাদের ওজন স্তর ক্ষয়কারী পদার্থ (Ozone Depleting Substances বা ODS) বলা হয়, ওজন স্তর ক্ষয়ের প্রধান কারণ। এই পদার্থগুলি একসময় রেফ্রিজারেন্ট, অ্যারোসল স্প্রে, ফোম তৈরির উপাদান এবং বিভিন্ন শিল্পে ব্যবহৃত হত। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ক্লোরোফ্লুরোকার্বন (CFCs), হ্যালোনস (Halons), কার্বন টেট্রাক্লোরাইড (Carbon Tetrachloride), মিথাইল ক্লোরোফর্ম (Methyl Chloroform) এবং হাইড্রোক্লোরোফ্লুরোকার্বন (HCFCs)।
এই ODS গুলি নিম্ন বায়ুমণ্ডলে খুবই স্থিতিশীল থাকে এবং ধীরে ধীরে স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে পৌঁছায়। স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে সূর্যের তীব্র অতিবেগুনী (UV) রশ্মির সংস্পর্শে এসে এই অণুগুলি ভেঙে যায় এবং ক্লোরিন (Cl) ও ব্রোমিন (Br) পরমাণু নির্গত করে। এই হ্যালোজেন পরমাণুগুলি ওজন (O₃) অণুকে ধ্বংস করার অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। একটিমাত্র ক্লোরিন পরমাণু হাজার হাজার ওজোন অণুকে ধ্বংস করতে পারে। এই বিক্রিয়াটি একটি শৃঙ্খল বিক্রিয়ার মাধ্যমে চলতে থাকে যতক্ষণ না ক্লোরিন পরমাণুটি অন্য কোনো রাসায়নিক পদার্থের সাথে যুক্ত হয়ে নিষ্ক্রিয় হয়।
ওজন স্তর ক্ষয়ের ফলে সমগ্র জীবমণ্ডলের উপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়ে। কিছু নির্দিষ্ট উদাহরণ নীচে উল্লেখ করা হল:
ওজন স্তর ক্ষয়ের ভয়াবহতা উপলব্ধি করে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে মন্ট্রিল প্রোটোকল অন্যতম। এই চুক্তির মাধ্যমে CFCs এবং অন্যান্য ওজন স্তর ক্ষয়কারী পদার্থের উৎপাদন ও ব্যবহার ধীরে ধীরে বন্ধ করা হচ্ছে। যদিও ওজন স্তর পুনরুদ্ধার হতে দীর্ঘ সময় লাগবে, তবে এই আন্তর্জাতিক সহযোগিতা একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সহায়ক।
ধন্যবাদ, । আমাদের একাডেমিক মেন্টর শীঘ্রই নম্বরে কল করবেন।