আমাদের ডান পাশে ধ্বস
আমাদের বাঁয়ে গিরিখাদ
আমাদের মাথায় বোমারু
পায়ে পায়ে হিমানীর বাঁধ
আমাদের পথ নেই কোনো
আমাদের ঘর গেছে উড়ে
আমাদের শিশুদের শব
ছড়ানো রয়েছে কাছে দূরে!
আমরাও তবে এইভাবে
এ-মুহূর্তে মরে যাব না কি?
আমাদের পথ নেই আর
আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি।
আমাদের ইতিহাস নেই
অথবা এমনই ইতিহাস
আমাদের চোখমুখ ঢাকা
আমরা ভিখারি বারোমাস
পৃথিবী হয়তো বেঁচে আছে
পৃথিবী হয়তো গেছে মরে
আমাদের কথা কে-বা জানে
আমরা ফিরেছি দোরে দোরে।
কিছুই কোথাও যদি নেই
তবু তো কজন আছি বাকি
আয় আরো হাতে হাত রেখে
আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি।
সারাংশ:
এই কবিতায় কবি মানুষে-মানুষে বিচ্ছিন্নতার, একাকীত্বের এবং সম্পর্কের ভাঙনের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। কবি আহ্বান জানিয়েছেন —
“আয়, আরো বেঁধে বেঁধে থাকি”,
অর্থাৎ আমরা যেন আরও কাছাকাছি আসি, সম্পর্কগুলোকে আরও মজবুত করি, ভালোবাসা ও সহমর্মিতায় একে অপরকে জড়িয়ে রাখি।
এই সময়ের বিভাজন, সন্দেহ, অহংকার ও আত্মকেন্দ্রিকতার মধ্যে কবি বিশ্বাস করেন — মানুষের সত্যিকারের শক্তি আসে একতাই, পরস্পরের মধ্যে বন্ধনেই।
তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, জীবনের কঠিন সময়, দুঃখ বা সংকট পেরোনো সম্ভব যদি আমরা একে অপরকে হাত ধরে পাশে রাখি।
মূল ভাবনা:
- সম্পর্কই জীবনের ভিত্তি।
- আমরা যত কাছাকাছি থাকি, ততই শক্তি পাই।
- বিভাজনের নয়, মানবিক একতার ডাক এই কবিতার প্রাণ।
এই কবিতা যেন মানবতার এক মর্মস্পর্শী অনুরোধ—
চলো, ভেঙে যাওয়া সময়ের মধ্যে একসাথে বেঁধে থাকি।