ভারতের জলবায়ুর নিয়ন্ত্রক, ঋতু বৈচিত্র্য, কৃষিকার্যের উপর মৌসুমী বৃষ্টিপাতের প্রভাব

বর্ণনা: ভারতের বিচিত্র জলবায়ুকে নিয়ন্ত্রণকারী বিভিন্ন কারণগুলি অন্বেষণ করুন এবং দেশজুড়ে অনুভূত স্বতন্ত্র ঋতুগত পরিবর্তনগুলি বুঝুন। পশ্চিমবঙ্গ বোর্ডের দশম শ্রেণির ভূগোলের পাঠ্যক্রমের জন্য বিশেষভাবে তৈরি এই বিস্তৃত নির্দেশিকাটি ভারতীয় কৃষিতে মৌসুমী বৃষ্টিপাতের গভীর প্রভাবও পরীক্ষা করে।

 

ভারতের জলবায়ুতে একটি অসাধারণ বৈচিত্র্য দেখা যায়, দক্ষিণে গ্রীষ্মমন্ডলীয় থেকে হিমালয়ের উত্তরে আল্পাইন পর্যন্ত বিস্তৃত। এই বিভিন্ন জলবায়ুকে নিয়ন্ত্রণকারী কারণগুলি এবং দেশটিকে নিয়ন্ত্রণকারী ঋতুগত ছন্দগুলি বোঝা এর ভূগোল এবং জনগণের জীবনযাত্রার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষত ভারতীয় মৌসুমী বায়ু একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, বিশেষত এর কৃষি ভূদৃশ্য গঠনে।

ভারতের জলবায়ুর নিয়ন্ত্রক:

ভারতের জলবায়ু নির্ধারণে বেশ কয়েকটি কারণ সম্মিলিতভাবে কাজ করে:

  • অক্ষাংশ (Latitude): ভারতের অক্ষাংশগত বিস্তার, প্রায় ৮°৪’ উত্তর থেকে ৩৭°৬’ উত্তর পর্যন্ত, এটিকে গ্রীষ্মমন্ডলীয় এবং উপ-গ্রীষ্মমন্ডলীয় অঞ্চলে স্থাপন করে। কর্কটক্রান্তি রেখা দেশের মাঝখান দিয়ে গেছে, এটিকে এই দুটি জলবায়ু অঞ্চলে বিভক্ত করেছে। কর্কটক্রান্তি রেখার দক্ষিণে অবস্থিত অঞ্চলগুলিতে সারা বছর উচ্চ তাপমাত্রা সহ একটি গ্রীষ্মমন্ডলীয় জলবায়ু দেখা যায়, যখন এর উত্তরে অবস্থিত অঞ্চলগুলিতে স্বতন্ত্র গরম গ্রীষ্ম এবং শীতল শীত সহ একটি উপ-গ্রীষ্মমন্ডলীয় জলবায়ু রয়েছে। বিষুবরেখার সান্নিধ্য প্রাপ্ত সৌর বিকিরণের পরিমাণকে প্রভাবিত করে, যা সরাসরি তাপমাত্রাকে প্রভাবিত করে।

  • উচ্চতা (Altitude): উত্তরে সুউচ্চ হিমালয় পর্বতমালা ভারতের জলবায়ুকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করে। হিমালয় একটি বাধার মতো কাজ করে, মধ্য এশিয়া থেকে আসা ঠান্ডা, শুকনো বাতাসকে ভারতীয় উপমহাদেশে প্রবেশ করতে বাধা দেয়, এইভাবে এটিকে তীব্র শীত থেকে রক্ষা করে। এছাড়াও, উচ্চতা নিজেই তাপমাত্রাকে প্রভাবিত করে; উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে তাপমাত্রা হ্রাস পায়। এর ফলে হিমালয় অঞ্চলে উষ্ণ উপ-গ্রীষ্মমন্ডলীয় উপত্যকা থেকে ঠান্ডা আল্পাইন চূড়া পর্যন্ত বিস্তৃত জলবায়ু পরিস্থিতি দেখা যায়। পশ্চিম উপকূলের পশ্চিমঘাট পর্বতমালাও তাদের উচ্চতা এবং অবস্থানের কারণে বৃষ্টিপাতের ধরণকে প্রভাবিত করে।

  • চাপ ও বায়ুপ্রবাহ (Pressure and Winds): চাপ এবং বায়ুপ্রবাহ ব্যবস্থা ভারতের জলবায়ুর, বিশেষত মৌসুমী বায়ুর গুরুত্বপূর্ণ নির্ধারক।

    • পৃষ্ঠের চাপ ও বায়ুপ্রবাহ (Surface Pressure and Winds): শীতকালে, উত্তর সমভূমিতে একটি উচ্চ-চাপ অঞ্চল তৈরি হয়, যার ফলে শুকনো, ঠান্ডা বাতাস দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়। গ্রীষ্মকালে, তীব্র উত্তাপ মধ্য এশিয়া এবং উত্তর-পশ্চিম ভারতে একটি নিম্ন-চাপ অঞ্চল তৈরি করে, যা দক্ষিণ ভারতীয় মহাসাগরের উচ্চ-চাপ অঞ্চল থেকে বাতাসকে আকর্ষণ করে।
    • উর্ধ্বাকাশের বায়ুপ্রবাহ (জেট স্ট্রিম) (Upper Air Circulation – Jet Streams): উচ্চ-উচ্চতায় (৬ কিলোমিটারের উপরে) পশ্চিমা বাতাসের সংকীর্ণ বেল্ট, যা জেট স্ট্রিম নামে পরিচিত, শীতকালে পশ্চিমা ঝঞ্ঝা আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যা উত্তর-পশ্চিম ভারতে বৃষ্টিপাত ঘটায়। উপ-গ্রীষ্মমন্ডলীয় পশ্চিমা জেট স্ট্রিম এবং গ্রীষ্মমন্ডলীয় পূর্বা জেট স্ট্রিম মৌসুমী বায়ুর আগমন এবং চলাচলকে প্রভাবিত করে। গ্রীষ্মকালীন অয়নকালের কাছাকাছি সময়ে উপ-গ্রীষ্মমন্ডলীয় পশ্চিমা জেট স্ট্রিমের আকস্মিক উত্তর দিকে সরে যাওয়া এবং উপদ্বীপীয় ভারতের উপর গ্রীষ্মমন্ডলীয় পূর্বা জেট স্ট্রিমের প্রতিষ্ঠা মৌসুমী বায়ুর আগমনের সাথে যুক্ত।
  • সমুদ্র থেকে দূরত্ব (Continentality): ভারতের উপকূলীয় অঞ্চলগুলি সমুদ্রের মাঝারি প্রভাবের কারণে আরও মাঝারি জলবায়ু অনুভব করে। সমুদ্র স্থলভাগের তুলনায় ধীরে ধীরে উত্তপ্ত এবং শীতল হয়, এইভাবে সারা বছর তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকে। এই অঞ্চলগুলিতে গ্রীষ্ম এবং শীতের মধ্যে তাপমাত্রার পার্থক্য কম থাকে। বিপরীতে, অভ্যন্তরীণ অঞ্চলে অবস্থিত অঞ্চলগুলি চরম তাপমাত্রা – খুব গরম গ্রীষ্ম এবং খুব ঠান্ডা শীত – এবং বৃহত্তর বার্ষিক তাপমাত্রার পার্থক্য সহ একটি মহাদেশীয় জলবায়ু অনুভব করে।

  • সমুদ্র স্রোত (Ocean Currents): ভারত মহাসাগর দ্বারা বেষ্টিত হলেও, প্রধান উষ্ণ বা শীতল সমুদ্র স্রোতের সরাসরি প্রভাব এর সামগ্রিক জলবায়ুর উপর অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় কম। তবে, ভারত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা মৌসুমী বায়ুর ধরণ এবং বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণকে প্রভাবিত করে।

  • ভূ-প্রকৃতি (Relief/Topography): ভারতের ভৌত বৈশিষ্ট্য, যেমন পর্বতমালা, মালভূমি এবং সমভূমি, তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত এবং বায়ুপ্রবাহের ধরণকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করে। উদাহরণস্বরূপ, পশ্চিমঘাট পর্বতমালা আরব সাগর থেকে আসা আর্দ্র মৌসুমী বাতাসকে বাধা দেয়, যার ফলে এর পশ্চিমা ঢালে ভারী বৃষ্টিপাত হয় এবং পূর্বা ঢালে বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল তৈরি হয়। একইভাবে, পর্বতশ্রেণীর অবস্থান বায়ুপ্রবাহকে চালিত করতে এবং বৃষ্টিপাতের বন্টনকে প্রভাবিত করতে পারে।

ঋতু বৈচিত্র্য:

ভারতে সারা বছর ধরে স্বতন্ত্র ঋতুগত পরিবর্তন দেখা যায়, যা মূলত সূর্যের আপাত গতির সাথে যুক্ত চাপ বলয় এবং বায়ুপ্রবাহের স্থানান্তরের কারণে ঘটে:

  • শীতকাল (The Cold Weather Season) – ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি: এই সময়ে সূর্যের সরাসরি রশ্মি মকরক্রান্তি রেখার দক্ষিণে পড়ে, যার ফলে ভারতের বেশিরভাগ অংশে তাপমাত্রা হ্রাস পায়। উত্তর সমভূমিতে একটি উচ্চ-চাপ অঞ্চল বিরাজ করে, যার ফলে এই অঞ্চল থেকে শীতল, শুষ্ক এবং মৃদু বাতাস বাইরের দিকে প্রবাহিত হয়। উত্তর-পশ্চিমে তাপমাত্রা সর্বনিম্ন থাকে এবং ধীরে ধীরে দক্ষিণের দিকে বৃদ্ধি পায়। উত্তর সমভূমিতে কুয়াশা সাধারণ এবং হিমালয়ে তুষারপাত হয়। ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল থেকে উৎপন্ন এবং পশ্চিমা জেট স্ট্রিম দ্বারা বাহিত পশ্চিমা ঝঞ্ঝা উত্তর-পশ্চিম ভারতে শীতকালীন বৃষ্টিপাত ঘটায়, যা রবি শস্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উপদ্বীপীয় ভারত এই সময়ে হালকা এবং মনোরম আবহাওয়া অনুভব করে।

  • গ্রীষ্মকাল (The Hot Weather Season) – মার্চ থেকে মে: সূর্য উত্তর দিকে অগ্রসর হওয়ার সাথে সাথে ভারতের তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করে। মে মাসের মধ্যে দেশের বেশিরভাগ অংশ তীব্র তাপ অনুভব করে। উত্তর-পশ্চিম ভারতে একটি নিম্ন-চাপ অঞ্চল তৈরি হয়, যা আশেপাশের অঞ্চল থেকে বাতাসকে আকর্ষণ করে। ‘লু’ নামে পরিচিত শুকনো ও গরম বাতাস দুপুরে উত্তর ও মধ্য ভারতে প্রবাহিত হয়, যা প্রায়শই হিটস্ট্রোকের কারণ হয়। প্রাক-মৌসুমী বৃষ্টিপাত, যা কেরালা ও কর্ণাটকে ‘আম্র বৃষ্টি’ এবং পশ্চিমবঙ্গে ‘কালবৈশাখী’ নামে পরিচিত, স্থানীয় বজ্রঝড়ের কারণে ঘটে এবং তীব্র তাপ থেকে কিছুটা স্বস্তি দেয়।

  • দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু কাল (বর্ষাকাল) (The Southwest Monsoon Season – Rainy Season) – জুন থেকে সেপ্টেম্বর: এটি ভারতের বেশিরভাগ অংশের প্রধান বর্ষাকাল। জুনের শুরুতে, উত্তর-পশ্চিম ভারতের নিম্ন-চাপের পরিস্থিতি তীব্র হয়, যা আরব সাগর এবং বঙ্গোপসাগর থেকে আসা আর্দ্র দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বাতাসকে আকর্ষণ করে। মৌসুমী বায়ু দুটি শাখায় আসে: আরব সাগর শাখা, যা পশ্চিম উপকূলে আঘাত হানে এবং সেখানে ভারী বৃষ্টিপাত ঘটায়, এবং বঙ্গোপসাগর শাখা, যা পূর্ব উপকূল ধরে উত্তর দিকে অগ্রসর হয় এবং তারপরে পশ্চিমে মোড় নেয়। দুটি শাখা অবশেষে উত্তর-পশ্চিম ভারতে মিলিত হয়। এই সময়ে সাধারণত ভারী বৃষ্টিপাত হয়, যদিও এর বন্টন দেশজুড়ে পরিবর্তিত হয়। মৌসুমী বায়ু তীব্র বৃষ্টিপাতের সময়কাল এবং তারপরে শুকনো সময়ের দ্বারা চিহ্নিত করা হয়।

  • মৌসুমী বায়ু প্রত্যাবর্তনের কাল (শরৎকাল) (The Retreating Monsoon Season – Autumn) – অক্টোবর থেকে নভেম্বর: আগস্ট-সেপ্টেম্বরে মৌসুমী বায়ু তার শীর্ষে পৌঁছানোর পরে, উত্তর-পশ্চিম ভারতের নিম্ন-চাপ অঞ্চল দুর্বল হয়ে পড়ে এবং মৌসুমী বায়ু দক্ষিণ দিকে প্রত্যাবর্তন করতে শুরু করে। এই সময় পরিষ্কার আকাশ এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধির দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। অক্টোবরের শেষের দিকে, নিম্ন-চাপ অঞ্চলটি বঙ্গোপসাগরে সরে যায়, যার ফলে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয় যা পূর্ব উপকূল, বিশেষত তামিলনাড়ু এবং অন্ধ্র প্রদেশে ভারী বৃষ্টিপাত এবং শক্তিশালী বাতাস সৃষ্টি করতে পারে। এই ঋতুটি উত্তর-মৌসুমী কাল হিসাবেও পরিচিত।

ভারতের কৃষিকার্যের উপর মৌসুমী বৃষ্টিপাতের প্রভাব:

দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু ভারতীয় কৃষির জীবনরেখা। এর সময়মত আগমন, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত এবং সুষম বণ্টন খারিফ (গ্রীষ্মকালীন) ফসলের সাফল্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা ভারতের কৃষি উৎপাদনের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ। ভারতীয় কৃষিতে মৌসুমী বৃষ্টির প্রভাব গভীর এবং বহুমাত্রিক:

  • সেচের জলের উৎস (Water Source for Irrigation): ভারতীয় কৃষির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বৃষ্টি-নির্ভর, সরাসরি মৌসুমী বৃষ্টির উপর নির্ভরশীল। এমনকি সেচযুক্ত অঞ্চলে, মৌসুমী বৃষ্টিপাত জলাধার, নদী এবং ভূগর্ভস্থ জলকে পুনরায় পূর্ণ করে, যা সেচের অপরিহার্য উৎস। পর্যাপ্ত মৌসুমী বৃষ্টিপাতের প্রাপ্যতা চাষযোগ্য জমির পরিমাণ এবং ফসলের উৎপাদনশীলতা নির্ধারণ করে।

  • ফসল বর্ষপঞ্জি ও বপন কাল (Crop Calendar and Sowing Seasons): মৌসুমী বায়ুর আগমন ধান, ভুট্টা, তুলা, বাজরা এবং ডালের মতো খারিফ শস্যের বপন কাল নির্ধারণ করে। মৌসুমী বায়ুর কোনও বিলম্ব বা অনিয়মিত আচরণ কৃষি বর্ষপঞ্জিকে ব্যাহত করতে পারে, যার ফলে বপন বিলম্বিত হয়, ফসলের ফলন হ্রাস পায় এবং এমনকি ফসল নষ্টও হতে পারে।

  • ফসল ফলন ও উৎপাদনশীলতা (Crop Yield and Productivity): মৌসুমী বৃষ্টিপাতের পরিমাণ এবং বণ্টন সরাসরি ফসলের বৃদ্ধি এবং ফলনকে প্রভাবিত করে। পর্যাপ্ত এবং সময়োপযোগী বৃষ্টিপাত সঠিক হাইড্রেশন, পুষ্টির প্রাপ্যতা এবং উদ্ভিদের সামগ্রিক স্বাস্থ্যকর বিকাশের নিশ্চয়তা দেয়, যার ফলে উচ্চ উৎপাদনশীলতা হয়। বিপরীতে, অপর্যাপ্ত বা অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ফসল নষ্ট করতে পারে এবং ফলন কমাতে পারে।

  • অর্থনৈতিক তাৎপর্য (Economic Significance): কৃষি ভারতের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে এবং মৌসুমী বায়ু এর কার্যকারিতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একটি ভাল বর্ষার বছর সাধারণত উচ্চ কৃষি উৎপাদন, গ্রামীণ আয় বৃদ্ধি, খাদ্যের প্রাপ্যতা বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখে। একটি খারাপ বর্ষার বছর কৃষি খাত এবং বৃহত্তর অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।

  • আঞ্চলিক ভিন্নতা (Regional Variations): প্রাপ্ত বৃষ্টিপাতের পরিমাণের উপর নির্ভর করে ভারতের বিভিন্ন কৃষি অঞ্চলে মৌসুমী বায়ুর প্রভাব ভিন্ন হয়। ধারাবাহিকভাবে উচ্চ বৃষ্টিপাতযুক্ত অঞ্চলগুলি ধান এবং পাটের মতো জল-নিবিড় ফসলের জন্য উপযুক্ত, যখন মাঝারি বৃষ্টিপাতযুক্ত অঞ্চলগুলি গম, ভুট্টা এবং তৈলবীজের মতো ফসলকে সমর্থন করে। শুষ্ক ও আধা-শুষ্ক অঞ্চলগুলি সীমিত এবং পরিবর্তনশীল মৌসুমী বৃষ্টিপাতের কারণে খরা-প্রতিরোধী ফসল এবং দক্ষ জল ব্যবস্থাপনা কৌশলের উপর নির্ভর করে।

  • মৌসুমী বায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি (Vulnerability to Monsoon Variability): ভারতীয় কৃষি মৌসুমী বায়ুর খেয়ালিপনার প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের কারণে খরা ব্যাপক ফসলহানি, জল সংকট এবং কৃষকদের অর্থনৈতিক কষ্টের কারণ হতে পারে। একইভাবে, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত এবং বন্যাও ফসল এবং অবকাঠামো ধ্বংস করতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তন মৌসুমী বায়ুর পরিবর্তনশীলতাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে, যা কৃষি পরিকল্পনা এবং স্থায়িত্বের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

উপসংহারে, ভারতের জলবায়ু বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক কারণের একটি জটিল মিথস্ক্রিয়া, যার ফলে স্বতন্ত্র ঋতুগত পরিবর্তন দেখা যায়। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জলবায়ুগত বৈশিষ্ট্য, যা কৃষি খাত এবং লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবিকাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। এই জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ, ঋতুগত ছন্দ এবং মৌসুমী বৃষ্টির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা বোঝা ভারতের ভূগোল ও অর্থনীতি অনুধাবন করার জন্য অপরিহার্য।

Scroll to Top