অস্ত্র ফ্যালো, অস্ত্র রাখো পায়ে
আমি এখন হাজার হাতে পায়ে
এগিয়ে আসি, উঠে দাঁড়াই
হাত নাড়িয়ে বুলেট তাড়াই
গানের বর্ম আজ পরেছি গায়ে
গান তো জানি একটা দুটো
আঁকড়ে ধরে সে-খড়কুটো
রক্ত মুছি শুধু গানের গায়ে
মাথায় কত শকুন বা চিল
আমার শুধু একটা কোকিল
গান বাঁধবে সহস্র উপায়ে
অস্ত্র রাখো, অস্ত্র ফ্যালো পায়ে
বর্ম খুলে দ্যাখো আদুড় গায়ে
গান দাঁড়াল ঋষিবালক
মাথায় গোঁজা ময়ূরপালক
তোমায় নিয়ে বেড়াবে গান
নদীতে, দেশগাঁয়ে
অস্ত্র ফ্যালো, অস্ত্র রাখো গানের দুটি পায়ে…
সারাংশ:
এই কবিতায় কবি বলেছেন, যতই অস্ত্র শাণিত হোক না কেন, গানের শক্তিকে দমন করা যায় না। বন্দুক বা বোমা ক্ষণস্থায়ী ভয় সৃষ্টি করতে পারে, কিন্তু গানের যে সুর, কবিতার যে ভাষা, তা মানুষের চেতনায় দীর্ঘস্থায়ী ছাপ রেখে যায়।
কবি দেখাতে চান, নির্বাক শাসনের বিরুদ্ধে কবিতাই উচ্চারিত হয় প্রতিবাদের ভাষায়। গান আর কবিতা মানুষকে জাগিয়ে তোলে, তার ভিতরে বিবেকের আলো জ্বালায়। তাই কবি বিশ্বাস করেন, এই অস্ত্রের যুগেও মানুষ একদিন গান বেছে নেবে – শান্তির গান, প্রতিবাদের গান।
মূল ভাবনা:
- সহিংসতা ও অস্ত্রের বিরুদ্ধে কবিতা ও গানের প্রতিরোধ
- সৃজনশীলতার শক্তি হিংসার চেয়ে অনেক বেশি
- সাহসিকতা ও বিবেক জাগানোর মাধ্যম হিসেবে কবিতা
- গান ও কবিতাই সত্যিকারের পরিবর্তনের ভাষা
উপসংহার:
“অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান” কবিতায় জয় গোস্বামী এক গভীর বার্তা দিয়েছেন—
ভয় নয়, সৃষ্টিই শেষ কথা।
অস্ত্র যতই প্রবল হোক, গান থেমে যায় না।