মানুষের লিঙ্গ নির্ধারণ প্রক্রিয়া এবং পিতার ভূমিকা

 ভূমিকা

মানুষের লিঙ্গ নির্ধারণ (Sex Determination) একটি জটিল জৈবিক প্রক্রিয়া, যা নির্ধারণ করে যে গর্ভে বেড়ে ওঠা সন্তান পুত্রসন্তান (Male) হবে না কন্যাসন্তান (Female)
এই প্রক্রিয়া মূলত জিনগত (Genetic) কারণে ঘটে এবং এতে পিতার প্রদত্ত ক্রোমোজোম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এই লেখায় আমরা বিস্তারিতভাবে জানব কীভাবে লিঙ্গ নির্ধারিত হয় এবং এই প্রক্রিয়ায় পিতার ভূমিকা ঠিক কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

 ক্রোমোজোমের ভূমিকা লিঙ্গ নির্ধারণে

  • মানুষের শরীরে থাকে ৪৬টি ক্রোমোজোম, যা ২৩টি জোড়ায় বিভক্ত।
  • এর মধ্যে ২২ জোড়া অটোসোম (Autosomes)—যা দেহগত বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে।
  • ২৩তম জোড়া হলো লিঙ্গ নির্ধারণকারী (Sex Chromosomes) 

এই দুটি ক্রোমোজোম হতে পারে:

  1. X ক্রোমোজোম
  2. Y ক্রোমোজোম 
  • মহিলাদের ক্রোমোজোম গঠন: XX
  • পুরুষদের ক্রোমোজোম গঠন: XY 

 নিষেকের সময় লিঙ্গ নির্ধারণের প্রক্রিয়া

মানুষের প্রজনন প্রক্রিয়ায় পিতা ও মাতা উভয়ই জিনগত উপাদান প্রদান করেন:

  • মাতার ডিম্বাণু (Ovum) সবসময় X ক্রোমোজোম বহন করে।
  • পিতার শুক্রাণু (Sperm) বহন করতে পারে X বা Y, যেকোনো একটি। 

নিষেকের সময় কী ঘটে:

  • যদি X-বাহী শুক্রাণু ডিম্বাণুর সঙ্গে মিলিত হয় → সন্তান হবে XX = কন্যাসন্তান (Female)
  • যদি Y-বাহী শুক্রাণু ডিম্বাণুর সঙ্গে মিলিত হয় → সন্তান হবে XY = পুত্রসন্তান (Male) 

 কেন পিতাই সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণ করেন?

  • মাতা (XX) কেবল X ক্রোমোজোমই দিতে পারেন → তাই সন্তানের লিঙ্গে তার ভূমিকা নির্দিষ্ট থাকে। 
  • পিতা (XY) → দুটি প্রকারের শুক্রাণু উৎপন্ন করেন: 
    • X-বাহী শুক্রাণু
    • Y-বাহী শুক্রাণু 
  •  ৫০% সম্ভাবনা থাকে যে পিতার শুক্রাণু X ক্রোমোজোম বহন করবে
  • ৫০% সম্ভাবনা থাকে যে তা Y ক্রোমোজোম বহন করবে
     ফলে, সন্তানের লিঙ্গ সম্পূর্ণভাবে পিতার শুক্রাণুর ধরন নির্ভর করে—এটি একটি স্বাভাবিক এবং জৈবিক নিয়ম

উপসংহার

মানুষের লিঙ্গ নির্ধারণ একটি জিনগত উত্তরাধিকারভিত্তিক প্রক্রিয়া, যেখানে পিতার ভূমিকা প্রধান
বর্তমান সমাজে এখনো অনেক ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে, কিন্তু বৈজ্ঞানিক গবেষণায় স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে:
সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণে পিতার শুক্রাণুর প্রদত্ত ক্রোমোজোমই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে।তাই, লিঙ্গ নিয়ে কোনো পক্ষপাত বা দোষারোপ না করে, আমাদের উচিত বৈজ্ঞানিক তথ্যকে মেনে নেওয়া এবং সচেতনতা বৃদ্ধি করা

 

 

Scroll to Top